বরিশাল

বাউফলে জামায়াতকর্মীকে বিএনপি নেতার মারধরের অভিযোগ

  প্রতিনিধি ৬ আগস্ট ২০২৫ , ৯:২৫:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে বিজয় মিছিলে যোগ দেওয়ায় জামায়াতের কর্মী ফারুক হাওলাদারকে মারধর করেছে বলে বিএনপি নেতা জসিম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
মারধরে আহত ফারুক হাওলাদার বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তী হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আজ ৬ আগষ্ট (বুধবার) সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের আয়নাবাজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসারত আহত ফারুক হাওলাদার (৬০) বলেন, প্রথমত, ঢাকায় জামায়াতের ঐতিহাসিক সমাবেশে আমি যোগদান করার পর থেকে ওই বিএনপি নেতার টার্গেটে পরি। দ্বিতীয়ত, ৫ আগস্টে বাউফলে জামায়াতের আনন্দ মিছিলে যোগদান করায় আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে আজ ৬ আগস্ট সকালে বিএনপি নেতা জসিম পঞ্চায়েত আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। একইসাথে আমাকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালি দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জামায়াত কর্মী ফারুক হাওলাদার আরো বলেন, কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জসিম পঞ্চায়েত অতর্কিত হামলা চালায়। আমি অসুস্থ আমাকে মারিস না বলার পরেও থামেনি। আমাকে পুরো শরীরে আঘাত করা হয়েছে। আমার অন্ডকোষে লাথি দেয়ায় আমি মারাত্মক যন্ত্রণা সহ্য করতেছি। আমাকে ওরা হুমকি দিয়েছে যে- তুই জামায়াত করিস তুই আজকে দিনের মধ্যে কালাইয়া ছাড়বি। তানা হলে তোকে দেখে নেব।
মারধরে আহত ফারুকের স্ত্রী বিউটি বেগম (৫৫) বলেন, আমার স্বামী নানা রোগে আক্রান্ত। আমার স্বামীকে মারধর করে এবং বিএনপি নেতা জসিম পঞ্চায়েত আমাদেরকে বলেন, আজকে দিনের মধ্যে দেশ ছাড়বি। কালাইয়ায় কোনো জামায়াতের রাজনীতি চলবে না। তোরা যদি দেশ না ছাড়িস তাহলে তোদের খবর আছে। আমরা এই ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি এখন।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক কালাইয়া ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতি তাসনিম আলম বলেন, দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা বিভিন্ন দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করি। তারা সেখানে প্রতিনিয়ত বাধা দিচ্ছে। আমাদের সাংগঠনিক কাজ করতে দিচ্ছে না বিএনপির কথিত ওই নেতারা। আয়নাবাজে কোনো জামায়াত থাকতে পারবে না। তারা হুমকি দিচ্ছে- যেসব নারী-পুরুষরা জামায়াত করবে তাদের পরিনতি ভালো হবেনা। আমরা জীবন ঝুকিতে আছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জসিম পঞ্চায়েত বলেন,ফারুক হাওলাদার আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী ছিল। তাকে আমি বলেছি এখন আমাদের সাথে বিএনপি করো। জামায়াত করা লাগবে কেন আপনি আমাদের ভাই-ব্রাদার আমাদের সাথে দল করেন। এটি নিয়ে তার সাথে উচ্চবাচ্য হয়েছিল। তবে তাকে আমি মারিনি। আমাকে সমাজে চোট করার জন্য এই অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, ঘটনা শুনেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST