জাতীয়

কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটির উদ্যোগে ১৫৩ হৃদরোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

  প্রতিনিধি ১৮ মে ২০২৬ , ১১:৫৮:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইন ডেক্স:
জন্মগতভাবে হৃদরোগে (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) আক্রান্ত ১৫৩ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশন।
২ থেকে ৯ মে পর্যন্ত রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চ্যারিটি কার্ডিয়াক মিশনের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ সময় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রায় ১০৮ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর হার্টে ডিভাইস স্থাপন ও বিভিন্ন ইন্টারভেনশন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে রমজান উপলক্ষে এ উদ্যোগের আওতায় আরও ৩১ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এছাড়াও ১৪ শিশুকে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য নির্বাচন করা হয়। যার মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচজনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট নয়জন শিশুর সার্জারি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফাউন্ডেশনটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।
সর্বশেষ চ্যারিটি মিশনটি সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান কিডস হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম।
বাংলাদেশ টিমের সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডা. আশিক মো. রায়হান চৌধুরী, ডা. প্রিয়াঙ্কা দাস, ক্যাথ ল্যাব চীফ টেকনিশিয়ান মো. আনোয়ার হোসেন, কালাম, নায়িম, আশরাফ, শাহ-আলম প্রমুখ।
কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসক মো. নোমান, জর্ডান থেকে ডা. ইয়াদ আল অমৌরি, ফিলিস্তিন থেকে ডা. হাসান, কাতার থেকে ডা. আব্দুল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।

উল্লেখ জন্মগত হৃদরোগ (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) শিশুদের জন্য এক নীরব ঘাতক। বিশ্বব্যাপী প্রতি হাজারে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন শিশু জন্মগত হৃদরোগে নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাংলাদেশে এ হার আরও উদ্বেগজনক। প্রতি হাজারে প্রায় ১৮ থেকে ২৫ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের চিকিৎসা বর্তমানে কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই ইন্টারভেনশন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হলেও চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বহু পরিবার এ ব্যয় বহনে অক্ষম। ফলে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রাণ হারায়।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST