প্রতিনিধি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ , ১১:১১:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
অনলাইন সংস্করণ
বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে। টেকনাফে তাদের আত্মীয় স্বজনের কাছে আশ্রয় নিচ্ছে আমার এলাকায় আশেপাশে বাড়া বাসায় রোহিঙ্গারা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

টেকনাফের নয়াপাড়ার ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি মোহাম্মদ আয়াছ বলেন ক্যাম্পে গত এক সপ্তাহে নতুন করে আসা অন্তত ৩০০ এর বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সাব্বির জানান, মিয়ানমারের জান্তা ও আরাকান আর্মির লড়াইয়ে তার বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পর স্ত্রী ও সন্তানদের খবর জানেন না। তিনি মংডুর কাছাকাছি আসলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাকে আটকে রাখে। তাদের ক্যাম্পে নির্যাতন করে নানা বিষয় জিজ্ঞাসা করা হয়। ওই ক্যাম্পে তিনি টানা ৩ মাস ছিলেন।
তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর ১০-১২ দিনের চেষ্টায় ক্যাম্পের এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় টেকনাফের এক দালালের সঙ্গে আলাপ করেন। ওই দালালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্যারাংপুরু এলাকায় নাফ নদীর প্যারাবনে অবস্থান নেন।
নৌকা নিয়ে দালালরা যাওয়ার পর মিয়ানমারের ৫ লাখ কিয়ান নগদ দিলে তাকে নৌকায় তুলে এপারে নিয়ে আসেন। এরপর লুকিয়ে ক্যাম্পে পৌঁছেন তিনি।
সাব্বির আহমেদ আরও জানান, তার ৭ ছেলে-মেয়ে জীবিত থাকলেও স্ত্রী বোমার আঘাতে মারা গেছেন বলে শুনেছেন। ওখানে দুই পক্ষের সংঘাতে অনেকেই হতাহত হচ্ছে। রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে এদিক-ওদিক পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বেশিরভাগই বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়েছে। তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে চায়।
একই ক্যাম্পে আলাপ হয় মংডু শহর সংলগ্ন এলাকার ৪৫ বছর বয়সী রহিমা বেগমের সঙ্গে। তিনিও মিয়ানমারের ৫ লাখ কিয়াত দেওয়ার পর দালালের সহায়তায় ৪ দিন আগে টেকনাফ পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন।
তবে টেকনাফ সীমান্তে বাসিন্দাদের দাবি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড কার্যত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারছে না। নাফ নদীতে কড়া নজরদারি ও পাহারা থাকলেও দেশের চলমান পরিস্থিতির সুযোগে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করছে বাংলাদেশে।
বিজিবি ও কোস্টগার্ড কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্তে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। তবে রোহিঙ্গা বোঝাই অনেক নৌকাকে অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অনেক রোহিঙ্গাকে পুশব্যাক করা হয়েছে।
বর্তমান এই পরিস্থিতিতে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাখাইন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। তাদের নাফ নদী থেকে পুনরায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে নতুন করে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে এ পর্যন্ত কত রোহিঙ্গা ঢুকেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।


















Design & Developed by BD IT HOST