প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০২৬ , ৮:৪৪:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
ফারুক আহমেদ, যশোর প্রতিনিধি :
যশোরে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে গৃহবধূকে মারপিট করে হত্যা করে গলায় ওড়না পেচায়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলায়ে রাখায় অভিযোগে।
আদালতে মামলা, ২ লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ায় মিতুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ জখমের কোন আলামত নাই।
দীর্ঘ ৪ মাস পার তবুও বিচার পায়নি ভিকটিমের পরিবার।
কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং- ৩৮, তাং- ১৩/০৫/২৬, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড, বিজ্ঞ অতিঃ চীফ জুডিঃ ম্যাজিঃ আমলী আদালত সদর, যশোর। বাদী সবুজ কুমার বিশ্বাস (৩৬), পিতা- লক্ষণ কুমার বিশ্বাস, মাতা- শষ্টি রাণী, সাং- দিঘার পাড়া, শশার পাড়া, ডাক- মঙ্গলপোতা, ইউনিয়ন- মালিয়াট, থানা- কালিগঞ্জ, জেলা- ঝিনাইদহ। আসামী রনি বিশ্বাস (২৫), পিতা- সুবত বিশ্বাস, দ্রুপদী বিশ্বাস (৫০), স্বামী- সুবত বিশ্বাস, সুৰত বিশ্বাস (৫৮), পিতা- জ্যেতিষ বিশ্বাস, জনি বিশ্বাস (৩০), পিতা- সুবত বিশ্বাস, কুমার বিশ্বাস, পিতা- দর্শন বিশ্বাস, সাং- সাতমাইল শ্যামনগর, থানা- কোতয়ালী, জেলা- যশোর। মামলার উকিল এ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী, জজ কোর্ট, যশোর। মামলায় স্বাক্ষী বাদী নিজ, লীমা রানী, স্বামী- সবুজ কুমার বিশ্বাস, সাধন কুমার বিশ্বাস, পিতা- কুমারেশ বিশ্বাস, উভয় সাং- দিঘীর পাড়, বিকাশ দাস বিশ্বাস, পিতা- অজিত দাস, সাং- বেতলী পশ্চিমপাড়া, আকাশ বিশ্বাস, পিতা- তপন বিশ্বাস, সাং- বাজার মশিয়াহাটি, সর্ব থানা- কালীগঞ্জ, জেলা- ঝিনাইদহ, রতন কুমার বিশ্বাস, পিতা- অশোক কুমার বিশ্বাস, সাং- আড়পাড়া, থানা- শালীখা, জেলা- মাগুরা। গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ ইং রাত আনুমানিক ০৮ টায় ঘটনা রনি বিশ্বাসের বাড়িতে, আসামী রনি বিশ্বাস ভিকটিমের স্বামী, শ্বাশুড়ী, শ্বশুর, ভাসুর, চাচা শ্বশুর। রনি বিশ্বাসের সাথে মিতু বিশ্বাসের গত ইং ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে হিন্দু ধর্ম রীতি অনুযায়ী স্থানীয় পুরোহিত এর মাধ্যমে উভয় পক্ষের পারিবারিক সম্মতিতে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর কন্যার সুখের কথা চিন্তা করে সংসারের যাবতীয় আসবাবপত্র যেমন, খাট পালঙ্ক, টেবিল, থালাবাটি সহ সংসারের যাবতীয় জিনিস পত্র প্রদান করে। যাহার আনুমানিক মূল্য এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা রনি কে প্রদান করে। বিবাহের পর মিতুর সাথে রনির সুখে সংসার করছিল। বিবাহের কিছু দিন অতিবাহিত হবার পর রনি তার পরিবারের লোকজনের কু-প্ররোচনায় যৌতুক স্বরূপ মটর সাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য মিতুকে শারীরিক ও মানষিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। মিতু তার স্বামীর বাড়ির লোকজনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিরুপায় হয়ে একপর্যায়ে তার গরীব পিতা মাতাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের কথা জানালে পিতা মাতা কন্যার সুখের কথা চিন্তা করে রনিকে মটর সাইকেল ক্রয় করার জন্য নগদ এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করেন। রনি মটর সাইকেল ক্রয়ের নগদ টাকা এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা গ্রহণ করে মটর সাইকেল না কিনে নেশা সহ অপথে কুপথে খরচ করে ফেলে পুনরায় পরিবারের কু-প্ররোচনায় মিতুকে পুনরায় একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন ও একটি ইজিবাইক যার মূল্য দুই লক্ষ টাকা ক্রয় করে দেওয়ার জন্য মিতুকে পুনরায় শারীরিক ও মানষিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। একপর্যায়ে মিতু তার স্বামী রনিকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনার ৫ দিন আগে তার পিতা মাতার বাড়ীতে চলে এসে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের সমস্ত ঘটনা জানালে পিতা মাতা রনিকে তাদের বাড়ীতে কিছু দিন থাকতে বললে রনি তার শশুর সবুজের কথায় আশ্বস্থ হয়ে মিতুকে নিয়ে তার বাড়িতে অবস্থান করে। পরবর্তীতে ঘটনার তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২৬ ইং সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ টার সময় রনি তার শশুরকে কিছু না জানায়ে মিতুকে তার নিজ বাড়ীতে নিয়ে এসে সকল আসামীগণ একসাথে যৌতুক বাবদ ইজিবাইক ও স্মার্ট মোবাইল না পেয়ে মিতুর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষোভে রাগন্বিত হয়ে তাকে গালিগালাজ দিয়ে তার বুকে, পিঠে, হৃদপিন্ডে, কিডনী সহ সমস্ত শরীরে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি, লাথি মেরে মাটিতে ফেলেরাখে। রনি তার স্ত্রীকে পুনারায় মৃত্যু নিশ্চিত করবার জন্য বুকে অর্থাৎ হৃদপিন্ডে ও কিডনিতে অনবরত কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকলে জ্ঞান হারায়ে পড়ে গেলে শাশুড়ী দ্রুপদি তার বৌমাকে ডাকাডাকি করতে থাকে একপর্যায়ে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে তিনি বলেন যে, ” মিতু মারা গেছে”। এরপর সকলে মিলে একজোট হয়ে সুকৌশলে রনির শয়ন কক্ষের ভিতরে নিয়ে মিতুর ব্যবহারকৃত ওড়না গলায় পেচায়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলাই রাখে। রাত আনুমানিক ৮ টার সময় আসামীগণের মধ্যে একজন মিতুর পিতা ও মাতার কাছে সাংবাদ পাঠায় যে, তাদের কন্যা গলায় দড়ি দিয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। সবুজ বিশ্বাস উক্ত কথা শুনার সাথে সাথে স্বাক্ষীগণকে সঙ্গে নিয়ে একই তারিখে রাত আনুমানিক ১১ টার সময় রনিদের বাড়িতে পৌঁছাই দেখে যে, তাদেরর কন্যা মিতু আসামীদের বাড়ীর বারান্দায় খাটের উপর মৃত্যু অবস্থায় শুয়ানো রয়েছে। সবুজ ও সাথে থাকা স্বাক্ষীগণ দেখে যে, “মিতুর শরীরে একাধিক নির্যাতনের চিহ্ন এবং গলার বামপাশে ছোলা দাগ ও হালকা বাঁকা ছোলা চিহ্ন দেখতে পায়। এর কিছুক্ষণ পর কোতয়ালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালে সবুজ বিশ্বাস ডাকচিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলে যে, রনিসহ পরিবারের পরিবারের সবাই যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে তার কন্যাকে মারপিট করে হত্যা করে গলায় ওড়না পেচায়ে রনি ঘরের আড়ার সাথে ঝুলাই রাখে বলে কান্না কাটি করতে থাকে” ঘটনার স্থলের পুলিশ তার কন্যাকে নিয়ে ২৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক ২ টার সময় যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার কন্যাকে ভালোভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষনা করে পোষ্ট মর্টেম করবার জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে পুলিশ সবুজ এবং স্বাক্ষীগণকে বাড়ি চলে যেতে বলে এবং আরো বলে সকাল বেলায় হাসপাতালে আসতে। সবুজ ও স্বাক্ষীগণ একই তারিখে সকাল আনুমানিক ১০ টার সময় হাসপাতালে আসলে পুলিশের পোশাক পরা একজন ব্যক্তি মর্গের সামনে সবুজ ও স্বাক্ষীগণের ডেকে নিয়ে ২/৩ টি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে নেন। মিতুক্য পোষ্ট মর্টেম করে ও স্বাক্ষীগণের নিকট দিয়ে বলে যে, “আপনার কন্যা কে নিয়ে ধর্মীয় অনুযায়ী সৎকার করে থানায় আসেন মামলা করতে হবে”। পরবর্তীতে সবুজ বিশ্বাস তার স্বাক্ষীগণ নিয়ে সৎকার করে থানায় গিয়ে দেখতে পাই যে রনিদের কারোর বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি। সবুজ বিশ্বাস তখন থানা কর্তৃপক্ষকে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে থানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে যায়। যেহেতু মিতুর পিতা-মাতা শোকাহত থাকার কারণে এবং লেখাপড়া না জানার কারণে উক্ত কাগজে কি লেখা আছে উহা পড়ে শুনে না বুঝে পুলিশের কথামত ২/৩ টি কাগজে স্বাক্ষর করে দেয়। পরবর্তীতে সবুজ বিশ্বাস ও স্বাক্ষীগণ এবং আত্মীয়স্বজনদের সাথে আলাপ আলোচনা করে থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। সবুজ বিশ্বাস ও স্বাক্ষীগণ ন্যায় বিচার পাবার জন্য বিজ্ঞ আদালতে এসে মামলা করে। অত্রসাথ মিতুর জখমকৃত কিছু ছবি এবং সুরতহাল প্রতিবেদন, এন.আইডি কার্ড, সংযুক্ত করা হয়েছে।

সবুজ বিশ্বাস দন্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় আসামীগণের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করে জেল হাজতে আবদ্ধ রেখে মামলার সুবিচার চাই।
কোতয়ালী মডেল থানা অপমৃত্যমামলা নং ৬০/২৬, যশোরে অপ-মৃত্যুর সংবাদ প্রসংগে সবুজ কুমার বিশ্বাস (৪০) জানান, আমার মেয়ে মিতু বিশ্বাস (১৯) শ্যামনগর গ্রামস্থ স্বামীর বসত বাড়ীর শয়ন কক্ষের ভিতরে ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে বাধিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করিয়াছে এইটা লোকমুখে শুনতে পায়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আমি কখনও বলি নাই আত্মহত্যা করেছে লোকমুখে শোনা কথা বলতেই সঙ্গে সঙ্গে মনির নামের এক পুলিশ স্যার কম্পিউটারে টাইপ করেছিলো। সবুজ কুমার বিশ্বাস আরও বলেন, নাক, কান, ঠোঁট, পিটের তলে ও পেটের চারপাশে আঘাতের চিহ্ন ছিলো। নাক, কান, গাল দিয়ে রক্তের চিহ্ন, মাথার নিচে চুলের মধ্যে গভীর ক্ষত আঘাত দিয়ে মেরে ফেলেছে। কিন্তু সুরতহাল প্রতিবেদনে অপমৃত্যু মামলা নং- ১৮৫৩ এসআই সাইফুল ইসলাম সনাক্তকরনের বিশেষ চিহ্ন নাই, নাক, মুখ, কান দিয়ে তরল পদার্থ রক্তের আলামত না লিখলেন, জখমের বিবরণ নাই। শুধু গলায় অর্ধ চন্দ্র আকৃতি কালো দাগ আছে উল্লেখ করা। আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হয়নি, আর এসআই সাইফুল ইসলামের মন্তব্য প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় পারিবারিক কারণে রাত ৮ টার সময় স্বামীর বসত বাড়িতে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।
মিতু বিশ্বাসের পরিবারের দাবি, দিঘারপাড়া গ্রাম থেকে মিতু বিশ্বাস ও রনি বিশ্বাস ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭ টার সময় শ্যামনগর পৌছায়। মিতু বিশ্বাস বাড়ি পৌছায়ে ফোন করে বলে বাড়ি পৌঁছে গেছি কিন্তু তার ১ ঘন্টা পর খবর আসে মিতু গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে। ইজিবাইক কেনার জন্য ২ লাখ টাকা তাৎক্ষণিক ভাবে না দেওয়ার জন্য বাড়ি নিয়ে রনি ও তার পরিবারের লোকজন গুরুতর আঘাত করে হত্যা করেছে। আর লাশ পোস্ট মর্টাম করার পর মিতুুর গ্রামের বাড়ি নিয়ে এসে গোসল করানোর সময় পিটের দিকে, মাথার নিচে গুরুতর আঘাতের রক্ত জমাট বাঁধা দেখতে পায় মহিলারা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এই কন্যাহারা ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি ও বিচার দাবি জানিয়েছেন দুই হাত জোড় করে।
ঘটনার এই বিষয়ে জানতে চাইলে রনি বিশ্বাস ও সুবত বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে ফোন করলে কল রিসিভ করে নাই।


















Design & Developed by BD IT HOST