প্রতিনিধি ১৮ জুলাই ২০২৬ , ৯:০৪:২২ প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ একটি জানাজার নামাজ ও দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হন।
তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই এই চুক্তি লঙ্ঘন করে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় ফিলিস্তিনিদের একটি সমাবেশের ওপর ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নুসেইরাতেই এর আগে ইসরাইলি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজার নামাজ শেষে মরদেহের খাটিয়া নিয়ে বের হওয়ার সময় এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে অপেক্ষমাণ শোকাহত জনতার ওপর ড্রোন থেকে সরাসরি বোমা ফেলা হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী মধ্য গাজায় একটি সন্ত্রাসী সেল লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
তবে একই সঙ্গে তারা বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের খবরের বিষয়ে অবগত আছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীদের চোখের সামনে যুদ্ধবিরতি চুক্তি পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘন করে নিরীহ নাগরিকদের হত্যা ও আতঙ্কিত করে চলেছে আগ্রাসী ইসরাইলি সরকার।
শুক্রবারের (১৭ জুলাই) এই জানাজায় হামলা ছাড়াও গাজার অন্যান্য স্থানে আরও বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া শহরের আবু তামাম স্কুলের কাছে ড্রোন থেকে ফেলা বোমার আঘাতে ৫২ বছর বয়সি এক নারী নিহত হন। এছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়ায়দা শহরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলায় একজন এবং নুসেইরাত শিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়শিবিরে ইসরাইলি গোলার আঘাতে আরও একজন প্রাণ হারান।
পৃথক আরেকটি হামলায় গাজা সিটির একটি অ্যাপার্টমেন্টে ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পাশাপাশি খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরাইলি গুলিতে আহত আরেক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, গত অক্টোবর থেকে নামমাত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মে মাস থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত মাসে ইসরাইল ৪০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এক মাসে সর্বোচ্চ। এদিকে ইসরাইলি সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইল গাজায় রুটিন করে শিশুদের হত্যা করছে। গত ৯ মাসে অন্তত ২৭৪ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে, যার অর্থ দাঁড়ায় গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশুকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
গাজাজুড়ে ইসরাইলি ড্রোনের অবিরাম যান্ত্রিক শব্দ এবং অবকাঠামো ধ্বংসের এই ধারা উপত্যকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সমস্ত আশা ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।












Design & Developed by BD IT HOST