আন্তর্জাতিক

মার্কিন বিনিয়োগ ও উড়োজাহাজ কেনায় আগ্রহী ইরান

  প্রতিনিধি ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৮:২০:০০ প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তজার্তিক ডেক্স:
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তি করতে চায়, যা দুই পক্ষের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। রোববার এক ইরানি কূটনীতিক এই তথ্য জানিয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এ মাসের শুরুতে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধানে আবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু করেছে। এই বিরোধ মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। আলোচনার লক্ষ্য হলো নতুন কোনো সামরিক সংঘাত এড়ানো। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছে।
স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাটিস্লাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কো রুবিও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধান ও আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেন, তবে ব্যর্থতার সম্ভাবনা থাকাও স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সফল চুক্তি এখনো কেউ করতে পারেনি, কিন্তু আমরা চেষ্টা করব।
যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে। তবে রোববার ইরান তুলনামূলকভাবে নমনীয় অবস্থান দেখিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি-বিষয়ক উপপরিচালক হামিদ গানবারি বলেছেন, চুক্তি সফল করতে যুক্তরাষ্ট্রকেও এমন খাতে অংশগ্রহণ করতে হবে, যেখানে দ্রুত ও উচ্চ অর্থনৈতিক লাভ পাওয়া যায়। আলোচনায় তেল ও গ্যাস, খনিজ খাতের বিনিয়োগ, এমনকি বিমান কেনাবেচাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৫ সালের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত হয়নি।
২০১৮ সালে ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন এবং পরে পুনরায় কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারসহ একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বর্তমান আলোচনায় শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে, যেখানে ওমান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নিতে জেনেভার উদ্দেশে তেহরান ছেড়েছেন। সেখানে তিনি আইএইএ’র প্রধানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আপস করার জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব এসেছে, তবে শূন্য মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তেহরান মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা বাড়ায়। ইরান অবশ্য এই ধরনের অস্ত্র তৈরির চেষ্টা অস্বীকার করছে।
এই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বিমান হামলায় অংশ নিয়েছে এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপও বৃদ্ধি করেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চীনে ইরানের তেল রপ্তানি কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০% এর বেশি চীনে যাচ্ছে, তাই এতে ইরানের তেল আয়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST