প্রতিনিধি ২২ জুলাই ২০২৫ , ৮:৪৯:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশাল প্রতিনিধি:
যৌতুক দিতে না পারায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার বিকালে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস এ রায় দেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হলো বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার জাকিরতবক গ্রামের ছামেদ মীরার ছেলে মো. ছলেমান (৪১)। তিনি রায় ঘোষণার সময় পলাতক ছিলেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু।
জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের চরমাইঠা গ্রামের মৃত সিরাজুল হকের স্ত্রী পিয়ারা বেগম বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ২০০৯ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তার মেয়ে লাকিকে ২০০৭ সালে ছলেমানের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকে ছলেমান এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তার মেয়েকে জ্বালা-যন্ত্রণা দেয়। বাদীর মেয়ে লাকি তার মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়।
বাদী পিয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী নেই। আমার মেয়ে লাকি ও আমি ছলেমানকে যৌতুক দিতে না পারায় ছলেমান ঠাণ্ডা মাথায় আমার মেয়ে লাকির পরনের কাপড় দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করে। আমি লোকজন নিয়ে ছলেমানকে ধরে পুলিশের কাছে দেই। দীর্ঘদিন ছলেমান হাজতে ছিল। জামিনে গিয়ে পালিয়েছে। এ রায়ে আমি খুশি। আরও খুশি হব, যেদিন শুনব ছলেমানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু বলেন, ছলেমান ঠাণ্ডা মাথায় লাকিকে হত্যা করেছে। একটি যুগান্তকারী রায় হয়েছে। এই মেসেজটি সবাই জানলে যৌতুকের জন্য নারীদের ওপর অত্যাচার কমে আসবে।


















Design & Developed by BD IT HOST