আন্তর্জাতিক

পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে কি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যায়? প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের

  প্রতিনিধি ৯ অক্টোবর ২০২৬ , ৬:৫৭:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে কি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যায়? প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের

অনলাইন ডেক্স:
অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই কি কাউকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো সম্ভব—এমন প্রশ্ন করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে জানতে চান, গত ৮ আগস্ট থেকে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা শহিদুল শেখকে কোন ভিত্তিতে আটক রাখা হয়েছে। শহিদুলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ ও বসবাসের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে শহিদুলের স্ত্রী আদালতে আবেদন করে অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার রানিনগর থানার পুলিশ এবং মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। সেখানে বলা হয়, বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই শহিদুল অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছিলেন।
আদালতে রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের সময় কিছু ‘গোপন তথ্য’ সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই শহিদুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, শহিদুল নিজেই সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ ও বসবাসের কথা স্বীকার করেছেন।
তবে শহিদুলকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হলে তার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও প্যান কার্ড কীভাবে হলো, তা জানতে চান বিচারপতি। জবাবে রাজ্য সরকার দাবি করে, জাল নথি ব্যবহার করে এসব পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন শহিদুল।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শহিদুল যাকে নিজের বাবা বলে দাবি করেন, সেই কালাম শেখের স্ত্রী এবং তার মেয়ে—দুজনই শহিদুলকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।
এফআরওর সামনে বক্তব্য জানানোর সুযোগ পাননি শহিদুল
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই কাউকে বাংলাদেশি নাগরিক প্রমাণ করা যায় না। পাশাপাশি, ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরও) সামনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগও শহিদুলকে দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি।
রাজ্য সরকারের আইনজীবী যুক্তি দেন, প্যান নম্বর, আধার কার্ড ও স্কুলের সনদের মতো নথি জাল করার অভিযোগ সন্দেহের যথেষ্ট কারণ এবং তা দেশ থেকে বহিষ্কারের ভিত্তি হতে পারে।
তবে আদালত প্রশ্ন তোলেন,১৯৭০-এর দশকে কত মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এসেছিলেন? পরিবারের সদস্যদের কিছু বক্তব্যের ভিত্তিতে কি তাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব?’
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা বহিষ্কারাদেশ পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে বলা হয়, ন্যায়বিচারের স্বার্থে ২৮ সেপ্টেম্বরের বহিষ্কারাদেশ উপযুক্ত আদালতে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। মামলাটি আগামী ১৪ অক্টোবর উপযুক্ত বেঞ্চে উপস্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, তবে তা সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সুবিধাজনক সময়ের ওপর নির্ভর করবে।
শহিদুল পেশায় একজন কৃষক। মুর্শিদাবাদের দুবাপাড়া এলাকায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তার স্বজনদের দাবি, তার বাবাও ওই এলাকায় বসবাস করতেন।
শহিদুলের স্ত্রী ৩৪ বছর বয়সি দেজিনা বিবি জানান, গত ৮ আগস্ট রাতে রানিনগর থানার পুলিশ অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী সন্দেহে তার স্বামীকে মুর্শিদাবাদ থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি স্বামীকে আর দেখেননি।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST