প্রতিনিধি ১২ আগস্ট ২০২৫ , ৯:১৫:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে নারীসহ ৫০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে বিএনপির ৪নং ওয়ার্ডের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সাজ্জাদ মাহমুদ সাজিব ও ইউপি সদস্য কামরুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। এরই জের ধরে প্রথম দফায় সোমবার রাতে আংশিক হাতাহাতি হয়। পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে দ্বিতীয় দফায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের নারীসহ আহত হয় অর্ধশতাধিক সমর্থক।
এতে উভয়পক্ষের গুরুতর আহতরা হলেন- মাহিন মিয়া (১৭), কাইয়ুম (৩৩), এমারুল (৪০), লাহিম মিয়া (৫০), মুজির আলী (৩০), সোয়েব (৪০), আব্দুল্লাহ (৩০), সেলেম মিয়া (৪৫), শিমুল (৩০), এমারুল (৪৩)।
আহত ১০ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলে হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আহতদের জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশের সহযোগিতায় এলাকা শান্ত আছে।
ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, আমার ছোট ভাই অমির ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি প্রার্থী হয়েছে। প্রায় তিন শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে মৌখিক ভোটে অমির মুবির প্যানেল জয়ী হয়। এতে সাজিব গ্রুপের কেউ নির্বাচিত না হওয়ায় তারা কমিটি গঠন থেকে বের হয়ে কমিটির বিরুদ্ধে স্লোগান দিলে এতে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া শুরু হয়। এতে সংঘর্ষ বাধে।
কমিটি নিয়ে উত্তেজনার খবর পেয়ে এতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালিক মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইপক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান করলে বিএনপি নেতা সাজিবের লোকজন আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হন। এমনকি আমার বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ সাজিব জানান, বিএনপির ৪নং ওয়ার্ডের কমিটি গঠন নিয়ে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এতে আমি কোনো পক্ষ নই। এটা হচ্ছে আব্দুল মতিন গ্রুপ আর অমির গ্রুপ। আমি এ কমিটি গঠনের অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলাম। আমি এখানে বক্তব্য রেখে চলে আসি। কমিটি গঠন নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে আমিসহ উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালিক ও সদস্য নাজিম উদ্দিন এ ঘটনাকে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেছি।
এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষরপ্রাপ্ত) আব্দুল মালিক মিয়া যুগান্তরকে জানান, সদর ইউনিয়নের ৪নং বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং আমি নিজেও উপস্থিত হয়ে পুলিশর সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করি। এ বিষয়টা আমরা আজ রাতে বসে মীমাংসা করব।
জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় সংঘর্ষে অর্ধশত আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা নেই; বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন কোনো অভিযোগ পাইনি- তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে












Design & Developed by BD IT HOST