রাজনীতি

জাপা প্রার্থীদের প্রতীক না দিতে এনসিপি নেতাদের দাবি ভোট হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি

  প্রতিনিধি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:১১:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীতে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে ঢুকে পড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির বিলুপ্ত কমিটির একদল নেতাকর্মী জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়ার দাবি তোলেন।
এনসিপির নেতারা জাতীয় পার্টিকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলে রাজশাহীতে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলেছেন- এখানে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
এনসিপি নেতাদের হুমকি সত্ত্বেও জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আকতার জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ দেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসার আফিয়া আকতার জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দিতে কোনো বাধা নেই। নির্বাচন কমিশন থেকে এ বিষয়ে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। তাই রাজশাহীর বিভিন্ন আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে শুরু হয় বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম।
দুপুরের কিছুটা আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির বিলুপ্ত হওয়া রাজশাহী জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম জনাকয়েক নেতাকর্মী নিয়ে ডিসির সম্মেলন কক্ষে ঢুকে পড়েন। হাত উঁচিয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়ে মাইক টেনে দেন। এনসিপি নেতারা রাজশাহীর তিনটি আসনে বৈধ ঘোষিত জাতীয় পার্টির তিন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়ার দাবিতে একটি লিখিত আবেদন হস্তান্তর করেন।
এনসিপির নেতাদের অভিযোগে বলা হয়েছে- আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন সহযোগী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবং তাদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এসব ব্যক্তি ও দল অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোটাধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা পালন করেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে স্বৈরাচার ও তার দোসরদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। সংবিধান, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।
আবেদনে জাতীয় পার্টি সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও দলের মনোনয়নপত্র এবং প্রতীক বরাদ্দ বাতিল করা; যেসব প্রার্থী অতীতে অবৈধ নির্বাচন, ভোট কারচুপি ও দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের প্রার্থিতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার আফিয়া আকতার আরও বলেন, আইনের মধ্যে সবাইকে কথা বলতে হবে। আইনের বাইরে হলে আমরা তা করতে পারি না। জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ দল নয়। জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। সুতরাং তাদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে রিটার্নিং অফিসার এনসিপি নেতাদের এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেন।
এদিকে রিটার্নিং অফিসারের এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করে এনসিপির নেতাকর্মীরা সম্মেলন কক্ষে চিৎকার দিতে থাকেন। ডিসির সম্মেলন কক্ষে হৈ চৈ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তাদের কেউ কেউ বলতে থাকেন জাতীয় পার্টি প্রতীক পেলে রাজশাহীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। এ সময় সঙ্গীরা বলতে থাকেন- ঠিক ঠিক হতে দেওয়া হবে না হবে না।
এ সময় উপস্থিত বিভিন্ন দলের মনোনীত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে এনসিপি নেতাকর্মীরা আস্তে আস্তে কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। বেরিয়ে যাওয়ার সময় তারা বলতে থাকেন- আমরা শিগগিরই কর্মসূচি ঘোষণা করব। বৃহস্পতিবার তাদের দাবি না মানা হলে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে দাবি আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST