আন্তর্জাতিক

গাজার গণহত্যা বদলে দিচ্ছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি

  প্রতিনিধি ২১ অক্টোবর ২০২৫ , ৭:৫৯:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় চলমান ফিলিস্তিনি গণহত্যা শুধু মানবিক সংকটই নয়, বিশ্ব সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের ভাবনাকেও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তিনি বলেছেন, মানবতা ও ন্যায়ের পক্ষে এই লড়াই শুধু রাজনীতির নয়—এটি এখন শিল্প, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রেরও এক নতুন আন্দোলন।
এই বিশ্লেষণটি লিখেছেন হামিদ দাবাশি, তিনি নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি স্টাডিজ ও তুলনামূলক সাহিত্যবিষয়ক হাগোপ কেভর্কিয়ান অধ্যাপক।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়,ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা করেছে এবং তা অব্যাহত রেখেছে।
আন্তর্জাতিক মহল ইসরাইলকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জোরদার হয়েছে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের আদলে এক আন্তর্জাতিক আদালত গঠনের আহ্বান জানাচ্ছেন, যেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিচার হবে।
একইসঙ্গে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বহু ইহুদি নাগরিক ও শিল্পী ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
হামিদ দাবাশি বলেছেন, ইহুদিরা নয়, বরং জায়োনিস্ট মতবাদই এই গণহত্যার জন্য দায়ী।
গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতেও আলোচনার ঝড় উঠেছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব, যা দর্শকদের কাছ থেকে ২২ মিনিটের দাঁড়িয়ে অভিবাদন পায়।
টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ফিলিস্তিনি নির্মাতা আনেমারি জাসিরের প্যালেস্টাইন ৩৬ বিশেষ সাড়া ফেলে, যেখানে ১৯৩৬ সালের ফিলিস্তিনে উপনিবেশবাদের সূচনাকাল ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে, হলিউডের জনপ্রিয় তারকা এমা স্টোন, জোয়াকিন ফিনিক্স, রুনি মারা, নিকোলা কফলান ও অ্যান্ড্রু গারফিল্ড প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন—তারা ইসরায়েলি চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর কাজ করবেন না, যেগুলো গণহত্যা ও বর্ণবৈষম্যে জড়িত। এসব ঘটনাই বিশ্ব সিনেমায় এক নতুন নৈতিক ও মানবিক চেতনার সূচনা করেছে।
হামিদ দাবাশি বলেছেন, আজ বিশ্ব সিনেমার প্রকৃত কেন্দ্রবিন্দু গাজা—যেখানে তরুণ নির্মাতা বিসান আওদা আইফোনে নিজের জাতির হত্যাযজ্ঞ নথিবদ্ধ করে নতুন ইতিহাস লিখছেন।
বিসান আওদার তৈরি ইটস বিসান ফ্রম গাজা অ্যান্ড আই’ম স্টিল অ্যালাইভ সিরিজ বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছে, তিনি পেয়েছেন পিবডি, মারো ও এমি পুরস্কার।
তিনি মনে করেন, এই পুরস্কারগুলো বিসানকে নয়, বরং তার কাজের শক্তিকেই সম্মান জানায়।
হামিদ দাবাশি আরও বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও নির্মাতাদের কাজ বিশ্ব সিনেমার কেন্দ্রকে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে এসেছে। মানবতা ও ন্যায়ের পক্ষে এই লড়াই শুধু রাজনীতির নয়—এটি এখন শিল্প, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রেরও এক নতুন আন্দোলন।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST