আন্তর্জাতিক

হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ মানবে না ইরান

  প্রতিনিধি ১৪ জুলাই ২০২৬ , ২:৪৬:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না ইরান। একই সঙ্গে এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সহায়তা না করার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিও সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এসব কথা বলেন।
জোলফাঘারি অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ আমরা মেনে নিই না এবং ভবিষ্যতেও মেনে নেব না।
তিনি আরও বলেন, তেহরান যে নৌপথকে নিজেদের নির্ধারিত চলাচলের রুট হিসেবে বিবেচনা করে, তার বাইরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো চেষ্টা হলে ইরানি বাহিনী কঠোর জবাব দেবে।
জোলফাঘারি প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দেয়, ইরান তা শত্রুতাপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করবে। এতে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবেরও হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অবস্থানের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষা করছে। এর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কোনো বিকল্প নেই। আজ যদি আমরা নিজেদের রক্ষা না করি, তাহলে ভবিষ্যতে শত্রুর নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কোনো ইরানিই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে থাকতে পারেন না।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং এর জবাবে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রাম্প বলেন, চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তারা তা ভেঙে দিয়েছে। তারা সব সময়ই চুক্তি ভঙ্গ করে। আমরা তাদের সঙ্গে ১০টি চুক্তি করেছি, তাই এবার তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানা হবে।
তিনি আরও বলেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যাসৃষ্টিকারী একটি গোষ্ঠী।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহণ হয়। তাই এ নৌপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পালটাপালটি হুঁশিয়ারিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST