নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের কালিয়ায় একটি হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিলের পাকা ধান কাটতে দিচ্ছে না প্রতিপক্ষের লোকজন। তারা প্রায় ৮০ বিঘা জমির পাকা ধান কাটতে নিষেধ করেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
উপজেলার বাবলা-হাচলা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামে শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে। পুরুষশূন্য কাঞ্চনপুর গ্রামে নারীরা ধান কাটতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজনের বাধার মুখে পড়েন।
রোববার দুপুরে এলাকায় মাইকিং করে ধান কাটতে গেলে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এদিকে রাতেই খেতের পাকা ধান কে বা কারা সব কেটে নিয়ে গেছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বলছে- চলতি মৌসুমে ধান ঘরে তুলতে না পারলে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হবে তাদের। নিজেদের জমির ধান কাটতে না পারায় কান্নায় ভেঙে পড়েন কিষানি জোৎস্না বেগম।
তিনি জানান, রোববার দুপুরে এলাকায় মাইকিং করে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে মিলন মোল্যার দলের কেউ ধান কাটতে গেলে তাদের দেখে নেওয়া হবে। এ ভয়ে কেউ বিলে বা মাঠে ধান কাটতে যাইনি; কিন্তু রাতেই খেতের পাকা ধান কে বা কারা সব কেটে নিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ইছহাক শেখের দুই ছেলে, আজিবর শেখ ও মুজিবর শেখের প্রায় ৫০ শতক জমির ধান কেটে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন শেখের ৩০ শতক জমির ধান কেটে নেওয়া হয়েছে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পিকুল শেখ মুঠোফোনে বলেন, আমি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হওয়ায় দলীয় লোকদের বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ফাঁসাতে এহেন অপপ্রচার করেছে একটি কুচক্রী মহল।
কালিয়া থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে ফরিদ মোল্যা (৫৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ৩০ জনের মতো আহত হন। হত্যা পরবর্তী প্রতিপক্ষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও অর্ধশতাধিক বাড়িতে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ১নং আসামি করে হত্যা মামলা হয়।
সম্পাদক : মোঃ সফিকুল ইসলাম আইন উপদেষ্টা: এ্যাডভোকেট নূরুল হক বাচ্চু
E-mail: dainik-ekattorerpata@gmail.com মোবাইল নাম্বার : 01710150103
অফিস: 147/1, মিরহাজিরবাগ (শেখ পাড়া), যাত্রাবাড়ী, ঢাকা