বাগেরহাট প্রতিনিধি:
প্রতিদিন আকাশে মেঘ হচ্ছে, ঝড়-বৃষ্টি আসছে, একসঙ্গে মাঠের সবার ধান পেকে গেছে; আর এ কারণে ধানকাটা শ্রমিকের মূল্য দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ ধানের দামে ধস নেমেছে। ফলে কৃষকরা চরম লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। এখন জমির ধান কিভাবে ঘরে তুলব কিছুই ভেবে পাচ্ছি না।
এভাবে হতাশার কথা বলছিলেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কুরমণি গ্রামের ধানচাষি মালেক শেখসহ অনেকে।
স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় এখন বোরো ধান কাটা মৌসুম শুরু হয়েছে। মাঠভরা সোনালি ধান। এ অবস্থায় আকাশের অবস্থা বেগতিক হওয়ায় এ ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
একদিকে প্রতিদিন আসছে ঝড়-বৃষ্টি অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও ধানকাটা এবং মাড়াই মেশিন চালাতে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক কমে যাওয়ায় দেড় মণ ধানের দামে মিলছে না একজন শ্রমিক।
বর্তমানে একজন ধানকাটা শ্রমিকের জন্য ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এ অবস্থায় ফড়িয়া ও মহাজনরা ধানের দাম কমিয়ে দিয়ে চাষিদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে ধান ক্রয় করছেন। এতে চাষিদের ধানচাষের জন্য আসল চালান দূরে থাক বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে বলে জানান অনেকে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে ধানচাষে আগ্রহ হারাবে বলে মনে করেন অনেকে।
দুর্গাপুর গ্রামের বোরোচাষি প্রতুল হালদারসহ অনেকে জানান, বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও থেকে টাকা এনে চাষাবাদে তারা ব্যয় করেছেন কিন্তু এখন বাজারে ধানের মূল্য কমে আসায় অনেক লোকসান গুনতে হবে তাদের। কিভাবে ঋণের টাকা শোধ করবেন তার কিছু ভেবে পাচ্ছেন না। আগের চেয়ে এখন ধান উৎপাদনে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। এ খরচের টাকা কোনোভাবেই ঘরে তুলতে পারবেন না তারা। অন্যান্য বছর বাজারে ধানের মণ ১ হাজার ২শ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে অথচ এ বছর প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর জন্য স্থানীয় ফঁড়িয়া, মিল মালিক ও গুদাম মালিকদের কারসাজির কারণে ধানের দাম এতো কমে এসেছে বলে অভিযোগ তাদের।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত-আল-মারুফ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এলাকায় ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফসল মাড়াই ও কাটার জন্য এ পর্যন্ত শতাধিক চাষিদের তেলের কার্ড দেওয়া হয়েছে তবে এলাকায় একটি তেলের পাম্প থাকায় সেখান থেকে ঠিকমতো তেল সরবরাহ করতে পারছেন না। এছাড়া ১ হাজার ৪৪০ টাকায় সরকার ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন সেটি চালু হলে চাষিরা সঠিক মূল্য পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্পাদক : মোঃ সফিকুল ইসলাম আইন উপদেষ্টা: এ্যাডভোকেট নূরুল হক বাচ্চু
E-mail: dainik-ekattorerpata@gmail.com মোবাইল নাম্বার : 01710150103
অফিস: 147/1, মিরহাজিরবাগ (শেখ পাড়া), যাত্রাবাড়ী, ঢাকা