অনলাইন ডেক্স
কুমিল্লায় কর্মস্থল ছেড়ে ঢাকায় আন্দোলন করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যানরা। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার ৩০ শতাংশ লাইনম্যান কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে ঘূর্ণিঝড় শক্তির কবলে লন্ডভন্ড হয়ে পড়া জেলার ১৭টি উপজেলার বৈদ্যুতিক লাইন মেরামত করা যাচ্ছে না।
ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, কোথাও হেলে পড়েছে। আবার কোথাও ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে তার ছিড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে পুরো জেলা।
ঘূর্ণিঝড়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ৪টি সমিতি দাবি করছে। এদিকে ৫ দিনেও শতভাগ বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের ৪টি সমিতির অধীনে কুমিল্লার ১৭ উপজেলা এবং পাশের ২টি জেলার আরও ২টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। গত বুধবার এবং বৃহস্পতিবার রাতে প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়োবাতাসে জেলার প্রায় সব উপজেলার বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে গোটা জেলা। এতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। বিদ্যুতের অভাবে মোবাইল ফোনের চার্জ বন্ধ হয়ে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, ২, ৩ ও ৪ এর জেনারেল ম্যানেজারদের দেওয়া তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়ে ৮৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছে ৬২টি এবং প্রায় সাড়ে ৪শ স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এছাড়াও দুই শতাধিক স্থানে পোল হেলে যাওয়া, শতাধিক স্থানে ক্রস আর্ম ভেঙে গেছে, দেড় শতাধিক স্থানে ইনসুলেটর ও ৩ শতাধিক স্থানে মিটার ভেঙে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। প্রাথমিকভাবে অন্তত আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা করছে সমিতিগুলো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়- কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীনে চারটি উপজেলায় ২৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, ১৯টি ট্রান্সফরমার বিকল হয় এবং ১৫৫ স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চান্দিনা উপজেলায়। শুধুমাত্র ওই উপজেলায় ৮টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে ৬টি উপজেলায় ৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং ১৩টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ৬টি উপজেলায় সর্বোচ্চ ৪৩টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং ১৮টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়। ওই সমিতির অধীনে ১৮০টি স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর অধীনে ৩টি উপজেলায় ৯টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং ১২টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়। এছাড়া ১৭৬টি স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ জানান, টানা ৫ দিন বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে সবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফ্রিজে থাকা মাছ ও মাংস পচে গেছে। অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।
চান্দিনা উপজেলার সব্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানা জানান, চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আমার হ্যাচারির শত শত মুরগির ডিম নষ্ট হয়ে গেছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন নির্মাণ নিজেদের লাইনম্যান সংকট থাকায় বহিরাগত লোকজন দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিটি সমিতিতে ১ থেকে ২শ লাইনম্যান নিয়োজিত; কিন্তু আন্দোলন করতে তারা ঢাকায় আছে ৩০ শতাংশ। এ বিপর্যয়ে লাইনম্যানের অনেকটা সংকটে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আবু রায়হান বলেন, আমাদের কিছু লাইনম্যান তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করতে ঢাকায় আছেন। এতে ঝড়ের কবলে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করতে একটু বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও আমরা বহিরাগত লোকজন দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
সম্পাদক : মোঃ সফিকুল ইসলাম আইন উপদেষ্টা: এ্যাডভোকেট নূরুল হক বাচ্চু
E-mail: dainik-ekattorerpata@gmail.com মোবাইল নাম্বার : 01710150103
অফিস: 147/1, মিরহাজিরবাগ (শেখ পাড়া), যাত্রাবাড়ী, ঢাকা